সর্বশেষ

2/recent/ticker-posts

পবিত্র পোশাক-পর্বঃ- ১৭

 

 'ধর্মের সন্ধানে'' (In Search of Religion)

লেখকঃ নীল 

সম্পাদনা  
জিয়ানুর রহমান

 

পর্বঃ- ১৭   পবিত্র পোশাক

পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড়ে এক বৃদ্ধ চাচার কাছ থেকে একটি সিগারেট নিলাম প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে আজ,আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, রোডে  যানবাহন  ছাড়া পায়ে হাটা মানুষ তুলনা মূলক ভাবে কম ব্যস্ততম এই শহর অনেক টা বৃষ্টির জন্য কেমন যেন আনকোরা দেখাচ্ছে মানুষের কোলাহল কমে গেছে , ব্যাস্ত যানবাহন গুলিও কেমন যেন আজ ঝিমাচ্ছে কারন আজ তো বৃষ্টির রাজত্ব চলছে আমার মুখে তখনো সিগারেট জ্বলছে ট্রাফিক পুলিশ  নিজ দ্বায়িত্বে থেকে বৃষ্টিতে ভিজে দ্বায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে,মাঝে মধ্যে ভারী ভারী যানবাহন গুলি পিস ঢালা রাস্তার বুকে জমে থাকা পানিকে পিষ্ট করে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ কে বেচারার  জন্য ভীষণ মায়া হচ্ছে,কোথায় আজ  বউ বাচ্চা নিয়ে বাসায় বিশ্রাম নিবে, কিন্তু না দ্বায়িত্বে অবহেলার কথা  চিন্তা করে সমস্ত সুখ শান্তিকে বিসর্জন দিয়ে মানুষের কল্যানের জন্য এই বৃষ্টির দিনেও ডিউটি পালন করে যাচ্ছে সত্যিই মন থেকেই ট্রাফিক পুলিশটির  জন্য সন্মান এবং ভালোবাসা এসে পড়লো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশের বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা দেখতে থাকলাম অবশেষে সেখান থেকে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হলাসেখান থেকে কিছু পথ হাঁটার পর আরেকটি দৃশ্য দেখতে পেলাম পুলিশের এক টহল গাড়ি রাস্তার ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তুলছে একটু আগে যে পুলিশ বাহিনীর জন্য গর্বে বুকটা ভরে উঠলো  আর এখন এই দৃশ্য দেখার পর সেই পুলিশ বাহিনীর জন্য মুখ থেকে নোংরা গালি চলে আসলো সত্যিই পৃথিবীর অজানা রীতিনীতি তে খারাপের মধ্যে  পড়ে যাচ্ছে ভালো মানুষ গুলো এখন খারাপের  ভীড়ে ভালো মানুষ গুলি খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্টকর অবশেষে কিছুক্ষণ পর বাসায় ফিরলাম, বাসায় এসে দেখি পিতা একটি পত্রিকার কাগজ নিয়ে বসে আছে

 আমাকে দেখা মাত্রই চেচিয়ে উঠলো এই মোল্লা, মালাউনদের জন্য পৃথিবীকে এখন একটা জেলখানার মতো মনে হয়, পৃথিবী থেকে যদি এই মন্দির ,মসজিদ কে মাটির সাথে পিষিয়ে ফেলতে পারতাম তাহলে হয়তো এই পৃথিবী নামক জেলখানা থেকে মুক্তি পেতাম বুঝতে পারলাম পিতা আমাকে দেখেই এসব বলছে পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে ? মন্দির -মসজিদ কে মাটির সাথে পিষিয়ে দিতে চাচ্ছ কেন? পিতা তখন বললো এই খবরের কাগজ টি দেখে যা তাহলে তুইও এমন টা মনে করবি আমি বললাম তুমিই বল না আমিই শুনি তখন পিতা বললো ভারতের কেরালা রাজ্যে এক মন্দিরে ১২ বছরের শিশু ধর্ষনের দায়ে এক পৌরহিত্য সহ তিনজন কে আটক করেছে পুলিশ আমি বললাম পুলিশ আটক করেছে তাহলে ফেক তুমি ধরে নিতে পার তখন পিতা বললো আরে না পুলিশ আটক করবে সেটা ফেক কেন হবে?  পুলিশ তো অপরাধী কেই আটক করে আমি  তখন বললাম পুলিশ তো ঘুষ খায় দূর্নীতিও করে তখন পিতা বললো সব পুলিশ এক রকম না, দুই একজন করে তারা দ্বায় ভার সমস্ত পুলিশের উপর পড়ে,পুলিশ  যদি  এতোই খারাপ  হতো তাহলে কি সমাজের মানুষ পুলিশের উপর আস্থা রাখতে পারতো?  পুলিশ আছে বিধায় আমরা এখনো এই দেশে  শান্তিতে বসবাস করতে পারি বুঝলি?  

তখন আমি মুচকি হেসে পিতাকে বললাম দুই, একজন খারাপ পুলিশের দ্বায় ভার তুমি যদি সমস্ত পুলিশের উপর না দাও, তাহলে দুই একজন ধার্মিকের দোষ -ত্রটি কেন সমস্ত ধার্মিকের উপর দাও? সত্যি কথা বলতে পুলিশের পোশাক যে রকম পবিত্র ঠিক সেই রকম পবিত্র মন্দিরের পৌরহিত্য, মসজিদের ইমাম , চার্যের ফাদার এর পোশাক, এই কারনে এই পৃথিবীর সমস্ত ধর্ম প্রান মানুষ গুলো এদের এতোটা বিশ্বাস করে এবং এদের প্রতি এতোটা আাস্থা রাখে, এরা আছে বিধায় পৃথিবী এখনো টিকে আছে যারা এই পবিত্র পোশাককে  অপবিত্র করছে তাদের কে বিচারের আওতায় আনা হবে তাদেরকে  শাস্তি  প্রধান করা হবে  তাই বলে সেই পোশাক ,দাড়ি, সকলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোটা বেমানান  পিতা পুলিশ   ডিপার্টমেন্টে যেমন একটা পুলিশকে ঘুষ দূর্নীতির কথা কখনো শিক্ষা দেওয়া হয় না, ঠিক তেমন ভাবে আমার মনে হয়  বেদ, কুরআন, বাইবেলেও  এসব শিক্ষা দেওয়া হয় না এখন কিছু মানুষ নিজ স্বার্থের জন্য তারা এই পবিত্র পোশাক কে কাজে  লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করে

তাই দুই একজন ব্যাক্তির জন্য সমস্ত ধর্ম গুলিকে দোষারোপ করা ঠিকনা পিতা তখন পিতা বললো তাহলে বারবার কেন এদের খবরটাই হেডলাইন হয়?  তখন আমি পিতাকে বললাম কারন এরা পবিত্র ধরো তোমাকে একটা কালো কাগজ দেওয়া হলো কাগজে কিছু একটা লিখতে  তুমি ঐখানে যতই লেখালেখি কর লেখা গুলি খুজে পাওয়া খুবই কষ্টকর হবে কিন্তু তোমাকে একটা সাদা কাগজ দেওয়া হলে সেখানে তুমি যদি কলম দিয়ে একটু ফোটাও দাও  তাহলেও সেটা দূর থেকে দেখা যাবে, ঠিক সেই রকমভাবে মন্দিরের পৌরহিত্যে, মসজিদের ইমাম, চার্যের ফাদার এবং পুলিশ  বলো  এদের পোশাক গুলিও   সাদা কাগজের মতো একটু অপরাধ করে ফেললেই সেটা সবার নজরে এসে পড়ে  খবরের হেডলাইন হয়ে যায়  পিতা আর কিছু আমাকে না বলে রুম থেকে বাহির হয়ে গেল  আমিও আর পিতাকে আগ বাড়িয়ে কিছু বললাম না  আমার শরীরের উপর দিয়ে আজকে অনেক ধকল গেছে আমিও আজ বড্ড ক্লান্ত

তবে একটা অনুরোধ সকলের কাছে সবাই যেন এই পবিত্র পোশাক গুলোর সঠিক মূল্য বুঝে

 

বইটির কভার মূল্যঃ  ১৪০ টাকা
বাজার দামঃ ৫০ টাকা
পেজঃ ৮৮ 
বইটি পেতে 
যোগাযোগঃ01841612728

 

Post a Comment

0 Comments