'ধর্মের সন্ধানে'' (In Search of Religion)
লেখকঃ নীল
সম্পাদনা
জিয়ানুর
রহমান
পর্বঃ- ৬ আমার আশ্রিত পিতা
আমার আশ্রিত পিতা যাকে আমরা সবাই কিং নাস্তিক হিসেবে চিনি। তিনি হঠাৎ করেই আজ সবার উদ্দেশ্য বলা শুরু করে দিলেন, আমি কোন ধার্মীকের বিপক্ষে নই, আবার কোন নাস্তিকের বিপক্ষেও না, আমি মূলত দালালদের বিপক্ষে, যারা টাকা খেয়ে অনলাইনে ধর্ম বিদ্বেষ ছড়ায়, আজ এই দালালদের কারনে আমাদের মতো সত্যিকারের নাস্তিকেরা এই দেশে নিজেদের নাস্তিক পরিচয় দিতে পারে না,এই দালালদের কারনে আজ এই দেশের মানুষ নাস্তিক সমন্ধে বিরূপ মন্তব্য পোষণ করে। কিন্তু আপনি অনন্য দেশ গুলি দেখুন সেখানে হর হামেশে নাস্তিক-আস্তিক নির্বিশেষে একত্রিত হয়ে বসবাস করছে, কারন ঐ সমস্ত দেশে কোন দালাল নেই , ঐ সমস্ত দেশের নাস্তিক গুলির ধর্ম নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। কিন্তু আমাদের দেশের দালালেরা টাকা খেয়ে নাস্তিকতা প্রচার করে। আরে ভাই নাস্তিকতা কি প্রচার করার জিনিস? শুনেন এই দেশের সংবিধানে ধর্ম প্রচার করার কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু নাস্তিকতা প্রচারের কথা উল্লেখ নাই । তাই বলছি এই সব দালালী ছেড়ে কাজ করে খান, আপনারা যে কাজি করেন না কেন আমরা মাথা পেতে নেব কোন সমস্যা নেই, তবুও অনলাইনে এই দালালি ব্যবসা টা ছাড়েন, কারন আপনাদের জন্য আজ আমারা বিপদের মুখে, কোথাও নিজেদের পরিচয় টা পর্যন্ত মেলে ধরতে পারি না। পাবলিক পেদাতে আসে, তাই অনুরোধ করে বলছি দালালি ছেড়ে দিন এবং আমাদেরকেও বাঁচতে দিন।
আজকে আশ্রিত পিতার কথা গুলি শুনে খুব ভালো লাগলো, কারন তিনি আজকে ন্যায়ের পক্ষে কথা বললেন, যা তার মুখ থেকে এর আগে কখনো শুনিনি। কিছুক্ষণ পর পিতাকে এসে জিজ্ঞেসা করলাম ব্যাপার কি? যাদের কে এতো দিন অনলাইন যোদ্ধা বলে এসেছো আজ তাদের প্রতি ক্ষোভ ছাড়লেন কেন?
পিতা বললো আর বলিস না আজকে হঠাৎ করে এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলো। লোকটি আমাকে জোর কারে চা পান করালেন। কিন্তু ঘটনা ক্রমে উনি আমার পরিচয় জানতে চাইলেন আমার পরিচয় কি? তো আমি গর্বের সহিত বললাম আমি একজন নাস্তিক।তো ব্যাচ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর দেখি আমি মাটিতে গড়াগড়ি করছি, আর আমার চারপাশের লোকজন বলাবলি করছে পাইছি শালারে, এই শালারা ছদ্মনাম ব্যবহার করে অনলাইনে নাস্তিকতা প্রচার করে, আর ধর্ম গুলির বিরুদ্ধে কিচ্ছা রটাই। তো কোন রকম জান নিয়ে পালিয়ে এসেছি মাত্র, এখন বল ক্ষোভ ঝাড়বো না কি করবো? মার গুলি আমি খেয়েছি, ঐ দালালের বাচ্চারা খাই নি। আমি সম্পূর্ণ কাহিনী টা বুঝতে পারলাম। পিতা কে বললাম কেন ঐ খানে শুধু শুধু পরিচয় দিতে গেলেন? পিতা বললো, আমি কি জেনে রেখেছিলাম আমার আশে পাশে মূর্খ ব্যক্তিরা ঘোরাঘুরি করছে? আমি তো ভেবেছিলাম নাস্তিক পরিচয় দিলে হয়তো ঐ লোকটি আমাকে জ্ঞানী ভেবে আরও সন্মান করবে, কিন্তু না তার উল্টাটি হলো, আসলে আমিই মূর্খ, কেন ঐ খানে নাস্তিক পরিচয় দিতে গেলাম।
সম্পূর্ণ ঘটনা শুনার পর পিতা কে বললাম ঠিক আছে এখন যাও ফ্রেস হয়ে রেষ্ট নাও, শরীরের উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে । ঠিক বলেছিস কিন্তু আমি ঐ দালালের বাচ্চা দের দেখে নিব, যাদের কারনে আমরা এই দেশে নিজেকে নাস্তিক পরিচয় দিতে পারি না। আমি বলিলাম ওকে ঠিক আছে, এখন যাও, বিষয় টা আমি দেখছি।
বাজার দামঃ ৫০ টাকা
বইটি পেতে

0 Comments
Thanks for your comment.