বঙ্গবন্ধু
মনজুর আহমদ
কদিন আগেও বাংলা ছিল
ব্রিটিশ শাসন ঘিরে,
জীবন ছিল নিষ্পেষিত
দূঃখ কষ্ট ভিড়ে।
নিজের দেশে আর কতদিন
থাকব পরের গোলাম,
যুদ্ধ করে শত্রু লড়ে
আমরা স্বাধীন হলাম।
যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েও
হলাম পরাধীন,
অত্যাচারে জর্জরিত
স্বপ্ন হলো লীন।
পাকিস্তানি কি বেইমানি
করতো মোদের সাথে,
আমটা খেয়ে চেটেপুটে
আঁটি দিত হাতে।
কল কারখানা সবি চালায়
আমার দেশের শ্রমিক,
লাভ আসে যা লুট করে নেয়
কোন সে নিয়ম মাফিক!
দেশ শাসনে সেনা সৈন্যে
তারাই বড় পদে,
বাঙ্গালি সব দিন মজুর আর
রাত্র দিনে কাঁদে।
বাঙ্গালিদের ধ্বংস করতে
ফন্দি আঁটে তারা,
উর্দু বলা বাধ্য করে
নইলে বন্দি কারা।
মায়ের ভাষা মায়ের মতই
যায় কী তারে ভোলা?
যতই তারা আঘাত হানুক
ছুড়ুক বারুদ গোলা।
এমন সময় একটি যুবক
টুঙ্গি পাড়া গ্রামে,
চিনতো সবাই, ডাকতো তারে
"শেখ মুজিবুর" নামে।
মন ছিল তাঁর অনেক উদার
গরীব দুখীর তরে,
ন্যায়ের কাজে সমাজ মাঝে
সর্বদা যায় লড়ে।
যেমন ছিল রাজনীতি তার
তেমন তাহার ভাষণ
গুণ গরিমায় পান যে তিনি
দেশের সেরা আসন।
পড়া লেখায় যেমন ছিলেন
তেমন চলা ফেরায়,
সর্বকালের সেরা বাঙালি
ছিলেন বাংলা পাড়ায়।
উনিশ শ একাত্তর সালে
পাক বাহিনী যখন
সারাদেশে হামলা করে
হিংস্র পশুর মতন।
ঘোর বিপদে বঙ্গবন্ধু
গর্জে যখন উঠে
স্বার্থবাদীর স্বার্থনেশা
সবকিছু যায় টুটে।
পাকিস্তান আর রাজাকারে
হামলা যখন চালায়
কিন্তু একি দেখছি সেকি
জান নিয়ে সব পালায়।
"বীর বাঙ্গালী নয়
কাঙ্গালি
অন্য কারো প্রতি,
অস্ত্র ধরো যুদ্ধ করো
ফিরাও দেশের গতি"।
ডাক শোনে তাঁর মানবতার
"ছয়দফা" সেই দাবি।
ভয় কাঁপনে পাকিস্তানে
মারল জেলে চাবি।
বাঙ্গালি ভাই,ভয় কোন নাই,
শিল্পী,জ্ঞানী, কবি,
ছাত্র, নেতা,আম জনতা
ঐক্য গড়ে সবি।
শত্রু যে তাই ভয় পেয়ে যায়
বন্দি করে জেলে,
নির্বিচারে অত্যাচারে
মারছে মানুষ পেলে।
রাজাকারের চামচা চেলা
সঙ্গ দিল তাতে,
চুপটি করে হামলা চালায়
আঁধার কালো রাতে।
বাঙ্গালি তো বীরের জাতি
তারাও বসে নেই,
যার যা আছে তাই নিয়ে সে
বেড়িয়ে পড়ে সেই।
পাক বাহিনী ভীতুর খনি
সমর মাঠে গিয়ে,
লেজ গুটিয়ে পালাই শুধু
প্রাণটা হাতে নিয়ে।
কিন্তু ওরা নীচ কাপুরুষ
লজ্জা ঢাকার লিয়ে,
নারী শিশু অসহায়ে
হামলে পড়ে গিয়ে।
যতই তারা হামলা করুক
মামলা টুকে জেলে,
নিপীড়ন আর নিষ্পেষণে
পোড়াক আগুন জ্বেলে।
তাই বলে কী? বাঙ্গালি কী?
রয় কী কভু দমে?
মানবে নাকি জুলুম শোষণ
হোকনা যতই কমে?
জীবন মরণ যুদ্ধ চলে
সাড়ে নয় মাস ধরে,
অবশেষে সবাই হাসে
বাংলা স্বাধীন করে।
কিন্তু ওরা ভীষণ চালাক
ধূর্ত শিয়াল জাতি,
দেশ ছেড়ে যদিও পালায়
রেখে যায় নিজ নাতি।
পাক নাতিরা উৎপেতে রয়
বঙ্গবন্ধুর জন্য
যার উসিলায় বাংলা হল
স্বাধীন দেশে গন্য।
ট্যাংক কামানের গুলি ওরা
চালায় গণহারে
জামাল কামাল রাসেল তারাও
বাঁচতে নাহি পারে।
দিনটি ছিল হতভাগা
পনেরই আগষ্ট
বলতে গেলেই কান্না আসে
লাগে ভীষণ কষ্ট।
আগষ্ট এলে চোখের জলে
আমরা সবাই কাঁদি
বঙ্গবন্ধুর দেশ চেতনায়
স্বপ্ন বুকে বাধি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
শৈলকূপা, ০১/০৮/২০১৭

0 Comments
Thanks for your comment.